যুক্তরাজ্যের মোট জিডিপির ২২ শতাংশই ১৫৭ বিলিয়নেয়ারের দখলে

যুক্তরাজ্যের ১৫৭ জন বিলিয়নেয়ারের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ এখন দেশটির মোট জিডিপির পাঁচ ভাগের এক ভাগ বা ২২ শতাংশের বেশি।

সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনে কাজ করা দাতব্য সংস্থা ইকুয়ালিটি ট্রাস্টের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। ১৯৯০ সালের পর থেকে দেশটির শীর্ষ ধনীদের সম্পদ বাড়ার হার প্রায় পাঁচ গুণ হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

চলতি বছরের ‘সানডে টাইমস রিচ লিস্টের’ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ বিশ্লেষণ করেছে ইকুয়ালিটি ট্রাস্ট। সংস্থাটি এ প্রবণতাকে যুক্তরাজ্যের ‘ঘোস্ট জিডিপি’ বা ‘ছায়া জিডিপি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। এর অর্থ হলো দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির যে ‘চটকদার’ চিত্র খাতা-কলমে দেখা যাচ্ছে, সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের বাস্তবতার সঙ্গে তার কোনো মিল নেই।

ইকুয়ালিটি ট্রাস্টের সহনির্বাহী পরিচালক প্রিয়া সাহনি-নিকোলাস বলেন, প্রতি বছর রাজনীতিবিদরা জিডিপির প্রবৃদ্ধিকে অর্থনীতির সাফল্যের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেন। কিন্তু দেশের অধিকাংশ মানুষের কাছে মনেই হয় না যে অর্থনীতি সচল আছে। এ ফাঁপা অর্থনীতি সাধারণ মানুষকে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলি ও প্যারিস স্কুল অব ইকোনমিকসের অর্থনীতিবিদ গ্যাব্রিয়েল জুকম্যান এ বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী দশকগুলোয় জিডিপি প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আয় বাড়ার চিত্র বোঝা যেত। কিন্তু বর্তমানে সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচকের সঙ্গে সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় বাড়ার কোনো সম্পর্ক নেই। অতিধনীদের আয় ও সম্পদ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়া এবং আয়ারল্যান্ডে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর হিসাবের কারচুপির কারণে সামষ্টিক অর্থনীতির প্রকৃত চিত্র বদলে যাচ্ছে।

১৯৮৯ সালে যখন সানডে টাইমস প্রথম ধনীদের তালিকা প্রকাশ করে, তখন যুক্তরাজ্যে মাত্র ১৫ জন বিলিয়নেয়ার ছিলেন। তাদের মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৭০০ কোটি পাউন্ড। এটি ছিল তৎকালীন জিডিপির প্রতি ১ পাউন্ডে মাত্র ৪ পেন্সের সমান। ইকুয়ালিটি ট্রাস্টের হিসাবে, বর্তমানে ১৫৭ জন বিলিয়নেয়ারের সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৭ হাজার কোটি পাউন্ড। এটি এখন জিডিপির প্রতি ১ পাউন্ডে ২২ পেন্সের বেশি।

গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের সাধারণ শ্রমিকরা দীর্ঘ সময় ধরে মজুরি সংকটের মুখোমুখি। অথচ দেশের মাত্র ৫০টি শীর্ষ ধনী পরিবারের কাছে এখন যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে দরিদ্র ৩ কোটি ৪০ লাখ মানুষের সম্মিলিত সম্পদের চেয়েও বেশি সম্পদ রয়েছে। বিশ্বজুড়ে ১৯৯০ সাল থেকে জিডিপিতে বিলিয়নেয়ারদের সম্পদের অংশ ২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৪ দশমিক ১ শতাংশ হয়েছে। তবে যুক্তরাজ্যের ক্ষেত্রে এ হার ৪ শতাংশ থেকে ২২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে উল্লেখ করেছে ইকুয়ালিটি ট্রাস্ট।

রেজল্যুশন ফাউন্ডেশনের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ সাইমন পিটাওয়ে বলেন, ‘যুক্তরাজ্যে সামগ্রিক সম্পদ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধনী ও দরিদ্রের মধ্যকার ব্যবধানও অনেক বড় হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ স্তরের একজন মানুষ যদি তার কর্মজীবনের পুরো আয়ও অলৌকিকভাবে সঞ্চয় করেন, তবুও তিনি যুক্তরাজ্যের শীর্ষ ধনীদের তালিকায় পৌঁছতে পারবেন না।’

আরও